News

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকে সম্পদ করের আওতার বাইরে রাখতে হবে
23 Apr 2026
Source: Bonik Barta

প্রতি বছর ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ মেয়াদি ঋণ দেয়া হয়, তার একটি নির্দিষ্ট অনুপাত (যেমন ২ লাখ কোটি টাকার বিপরীতে ২০-৩০ হাজার কোটি টাকা) পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা মুদ্রানীতিতে থাকা উচিত। এটি বাস্তবায়নে সুদের হার ও করনীতির ক্ষেত্রে কোথায় সমন্বয় করতে হবে এবং কোন কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেটি নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে।

পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ জমি বা বন্ডের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এ ঝুঁকি সামাল দিতে বিনিয়োগকারীদের একটি ‘প্রিমিয়াম’ বা বিশেষ সুবিধা দেয়া উচিত। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে মূলধনি মুনাফার ওপর করহার নির্ধারণ করা উচিত। এক বছর পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ, দুই-তিন বছর মেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ, চার-পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ এবং বিনিয়োগের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হলে শূন্য কর নির্ধারণ করা যেতে পারে।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো মুনাফা প্রত্যাবাসন ও করসংক্রান্ত জটিলতা। এজন্য পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে কর ব্যবস্থা সহজ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রির পরপরই যেন স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে উৎসে কর কেটে নেয়ার সুযোগ থাকে এবং তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি করা যায় এমন ব্যবস্থা রাখা দরকার।

বাজেটে সম্পদ করের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শেয়ারের দাম পরিবর্তনশীল হওয়ায় বছর বছর কর দেওয়ার পর লোকসানে শেয়ার বিক্রি করলে বিনিয়োগকারী বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। সম্পদ করের চাপে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার না রেখে দ্রুত বিক্রি করে দেবেন, যা বাজারে অস্থিরতা বাড়াবে।মূলধনি মুনাফার ওপর করের পাশাপাশি সম্পদ কর আরোপ করলে বিনিয়োগের সক্ষমতা ও আগ্রহ দুটোই কমে যাবে। তাই শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগের বিষয়টি সম্পদ করের আওতার বাইরে রাখাটাই যুক্তিসংগত হবে।